সারাদেশ

নরসিংদীতে সাংবাদিক পরিচয়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের নাম ভাঙ্গিয়ে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ, নীরব ভূমিকায় প্রশাসন

মো. শফিকুল ইসলাম : নরসিংদীতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের নাম ভাঙ্গিয়ে নতুন ফাঁদে প্রতারক চক্র প্রতারণা করে বনে গেছে আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ আবার অনেকেই প্রতারিত হয়ে নি:স্ব।

এলাকাবাসি জানায় রায়পুরা উপজেলার মরজাল মধ্যপাড়া গ্রামের খোরশেদ আলমের পুত্র সাইফুল ইসলাম রুদ্র ও নরসিংদীর ভেলানগরের পাকাধারী রাজু মিয়া সাংবাদিক পরিচয়ে প্রতারনা করে সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে পড়ছেন। কখন ও চাকুরি দেওয়ার নাম করে, আবার কখনো ইসলামি ফাউন্ডেশনের লোক ও ডিবি অফিসার সেজে প্রতারণা করেছে প্রতারকরা। প্রতারণার শিকার রায়পুরা উপজেলার বাখরনগর ইউনিয়নের লচুন পুরা গ্রামের হত দরিদ্র ফাতেমা বেগম, মোমতাজ উদ্দিন ও রতুন পুর গ্রামের মাজেদ, তাজুল ইসলাম, মহিলা মেম্বার হুসনে আরা, একই ইউনিয়নের জলিল মেম্বার জানায় সাংবাদিক পরিচয়ে সাইফুল ইসলাম রুদ্র ও কালো খাট পাকনা ধারী রাজু মিয়া নরসিংদী ইসলামি ফাউন্ডেশনের ফর্ম নিয়ে আমাদেরকে ইসলামিক ফাউন্ডেশন হইতে সরকারী এক লক্ষ টাকা মুল্যের ঘর, গাভী,নিতে হলে প্রতিটি আইটেমের জন্য তাদেরকে নগদ ২৫ হাজার টাকা ও সেলাই মেশিন,ভেনগাড়ীর জন্য ১৫ শত টাকা করে আমাদের সহ ইউনিয়নের দরিদ্র প্রায় দুইশত লোকের নিকট হইতে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

এই ব্যাপারে বাখরনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম(নুরু) কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন সাংবাদিকদের আমারা সম্মান করি আর এ মহান পেশার পরিচয় দিয়ে আমার ইউনিয়নের মেম্বার ও জনগনের নিকট হইতে ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে ঘর,গাভী বেনগাড়ী,সেলাই মেশিন দেওয়ার কথাবলে দরিদ্র জনগনের নিকট হইতে প্রতারণা করে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে প্রতারকরা। প্রতিদিন জনগন আমার নিকট বিচার নিয়ে আসছে। প্রতারকদের অনেক খুঁজেছি পাচ্ছিনা,আমরা প্রতারকদের বিচার চাই।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন নরসিংদী কার্যালয়ে উপ পরিচালক মো. মহি উদ্দিনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন,এই প্রতারকরা আমাদের নাম ভাঙ্গিয়ে ঘর,গাভী,ভেনগাড়ী,সেলাই মেশিন দেওয়ার কথা বলে জনগনের নিকট হইতে টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। বাখরনগর এক মেম্বারের নিকট হইতে মৌখিক অভিযোগ পেয়েছি। এখনো লিখিত অভিযোগ পাইনি পাইলে তাদের বিরুদ্ধে আইন গত ব্যবস্থা নেওয়া হইবে।

প্রতারকদের ব্যাপারে প্রশাসনের করণীয় কি জানতে চাইলে,পুলিশ সুপার প্রলয় কুমার জুয়ারদার বলেন, এ সকল প্রতারকদের আইনের আওতায় আনার জন্য গোয়েন্দা বিভাগের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ইতি মধ্যে আমরা অনেক প্রতারক চক্রকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনেছি। আর যারা প্রতারণার শিকার হয়েছেন বা হচ্ছেন তারা আমাদের কাছে অভিযোগ করলে আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা ও সার্বিক সহযোগিতা গ্রহণ করব।