- ফিচার

নরসিংদীতে টেবিলে শর্টগান রেখে স্বতন্ত্র প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারণা! আতঙ্কে ভোটাররা

টেবিলে শর্টগান, পেছনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর আনারস প্রতীকের পোস্টার। নরসিংদী সদর উপজেলার নজরপুর ইউনিয়নের দিলারপুর বাজারে স্বতন্ত্র প্রার্থী জালাল উদ্দিন সরকারের নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণার চিত্র এমনই।

সম্প্রতি নরসিংদী জেলায় নির্বাচনী সহিংসতায় ৯ জন নিহতের ঘটনায় জেলাজুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। এরই মধ্যে নজরপুর ইউনিয়নে বিএনপির সভাপতি ও স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. জালাল উদ্দিন সরকার নির্বাচনী ক্যাম্পে শর্টগান নিয়ে প্রচারণায় যাওয়ায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে পুরো নির্বাচনী এলাকাজুড়ে। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতিকের প্রার্থী মো. সাইফুল হক স্বপন।

সম্প্রতি ছবিটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় উঠে।

এলাকাবাসী ও ভোটাররা জানান, আগামী ২৮ নভেম্বর নরসিংদীর নজরপুর ইউপি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এর আগে দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনে আমরা দেখেছি নরসিংদী ও রায়পুরায় নির্বচন নিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে ৯ জন মারা গেছে। এমন ঘটনায় এমনিতেই আমরা আতঙ্কে রয়েছি। তার উপর গত সোমবার সন্ধ্যায় সদর উপজেলার নজরপুর ইউনিয়নে প্রকশ্যে অস্ত্র নিয়ে মহড়া দিয়েছেন ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি ও স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান পদ প্রার্থী মো. জালাল উদ্দিন সরকার। আর তাঁর ছবি মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযেগমাধ্যমেও। পুরো নির্বাচনী এলাকায় এখন আলোচনা সমালোচনা হচ্ছে এই বিষয়টি নিয়েই।

আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মো. সাইফুল ইসলাম স্বপন বলেন, আনারস প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী জালাল প্রকাশ্যে এই অস্ত্রের মহড়া দেওয়ায় পুরো এলাকা জুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। আমি নিজেও আতঙ্কিত। নির্বাচনে তাঁর পরাজয় নিশ্চিত জেনে ভোটারদের ভয়-ভীতি প্রদর্শন করতেই এই অস্ত্রের মহড়া। আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা ও সুদৃষ্টি কামনা করছি।

এনিয়ে জালাল উদ্দিন সরকার বলেন, ‘এটা আমার লাইসেন্স করা শর্টগান। কেউ চাইলে লাইসেন্স দেখতে পারেন। আমি রাতের বেলা কোথাও গেলে নিরাপত্তার স্বার্থে শর্টগানটি সঙ্গে নিয়ে ঘুরি। সোমবার সন্ধ্যায় দিলারপুর বাজারে আমার নির্বাচনী ক্যাম্প উদ্বোধন ছিল, সেখানে বাইরের লোক ছিল, তাই শর্টগান নিয়ে গিয়েছিলাম।’

নির্বাচনের সময় সকল বৈধ অস্ত্র থানায় জমা রাখা হয় আপনি জমা দেননি কেন- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এটা আইনশৃঙ্খলা ও প্রশাসনের বিষয়। এটা তারা বুঝবেন।’

নরসিংদী সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সওগাতুল আলম বলেন, বিষয়টি এখনো আমার নজরে আসেনি। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।

এখানে কমেন্ট করুন: